ফাইল চিত্র,
টানা ৭২ ঘন্টা লোডশেডিং আলো জ্বলছে না, পাখা ঘুরছে না, জল তোলা যাচ্ছে না, নাজেহাল আম্ফানে বিধ্বস্ত বিস্তীর্ণ এলাকাবাসী। সবসময় একটাই দোষ দিয়ে যাচ্ছেন সবাই ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্মীদের গাফিলতিতে জনসাধারণের এই দুর্ভোগ। এমন পরিস্থিতিতে এক বিদ্যুৎ কর্মীর মনের কথা মেদিনীকথার পাতায় সবার মাঝে।

ফাইল চিত্র,
ভদ্রলোক বিদ্যুৎ কর্মী, জানালেন আমি এমন এক অফিসে চাকরি করি দিনের শেষে আমি বিদ্যুৎ কর্মী সবসময়েই জরুরি ভিত্তিতে সেবায় নিয়জিত।বিশ্বাস করুন গত ৭২ ঘণ্টায় আমাদের দপ্তরের কেউ এখনও ঘুমায়নি।ভয়াবহ আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত পূর্ব মেদিনীপুর সহ দুই চব্বিশ পরগনা ধ্বংস স্তূপে পরিণত হয়ে গেছে। আমাদের মোবাইল ভ্যান সার্ভিসে যারা আছেন দিন রাত এক করে আপনাদের সেবায় নিয়জিত আছেন। প্রতিটি এলাকায় কিলোমিটার অন্তর গড়ে আটটি করে গাছ পড়ে আছে যা গুনে শেষ করা যাবে না । এত পরিমাণে ইলেকট্রিক খুঁটি ভেঙে পড়ে আছে তা হিসেবের আওতায় আসবে না। যে খুঁটিগুলো দাঁড়িয়ে আছে সেগুলোর অনেকাংশেই জরাজীর্ণ, তাছাড়া বহু জায়গায় ট্রান্সফরমারে ভয়াবহ ভাব দাও-দাও করে আগুন লেগেছে ।

ফাইল চিত্র,
এমতাবস্থায় যদি বিদ্যুৎ চালু করা হয় তবে মুড়ি-মুড়কির মতো মানুষ মারা যাবে । জমা জলে যে পরিমাণে তার ছিঁড়ে পড়ে আছে তাতে বিদ্যুৎ চালু করলে এক মুহূর্তে এত পরিমান মানুষ মারা যাবে তা ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাড়ি-ঘরের ভেতরে যার যা ক্ষতি হয়েছে সেগুলো নাহয় বাদ দিলাম, কারন এটা ইলেকট্রিক্যাল নেটওয়ার্ক সাপের মতো ভয়ানক একটা ব্যাপার। রাজ্যজুড়ে এই ভয়াবহ ইলেকট্রিক নেটওয়ার্ক যেভাবে লন্ডভন্ড হয়েছে এটাকে ঠিক করতে ঠিক যতটা দিন লাগা উচিত সেই সময় আপনি আমাদের দেবেন না কারন জল, চার্জ, আলো ,ইন্টারনেট না থাকায় আপনিও আপনারা অস্থির হয়ে উঠেছেন। একটু বোঝার চেষ্টা করুন বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু করার জন্য যে বা যারা কাজ করছেন নাওয়া খাওয়া ভুলে তারাও মানুষ, তাদেরও সংসার পরিবার আছে। এরকম এই বিচ্ছিন্ন লন্ডভন্ড পরিস্থিতিতে অনেক বিদ্যূৎ কর্মী প্রাণ হারাবেন, এটাই হয়ে থাকে কারন খুঁটি বা পোলের মাথায় কাজ করতে করতে কখন তাদের এই অঘটন ঘটবে তা আমরা কেউ জানিনা।

ফাইল চিত্র,
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ইলেকট্রিক অফিসে মানুষজনের আন্দোলন শুরু হয়েছে, জোর করা হচ্ছে পরিষেবা চালু করার জন্য, মারধরও করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ নেই বলে মার খাচ্ছেন কর্মীরা কিন্তু এই ঝড়ে তাঁদের নিজেদের বাড়িতে এখনো চুরমার হয়ে পড়ে আছে কাচের জানলা, তাঁদের বাড়িতেও জল নেই এবং এগুলো লক্ষ্য করার সময়ও নেই বিদ্যুৎ কর্মীদের কাছে। বিদ্যুৎ কর্মীরা সহানুভূতি চায় না শুধু একটু তাঁদের সহযোগিতা করুন , যুদ্ধ কালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়েছে। সকলের উদ্যেশ্যে একটাই বার্তা দু-তিনটে দিন একটু কষ্ট সহ্য করে নেন অন্তত নিজেদের স্বার্থে, প্রাণের স্বার্থে, দয়া করুন, হাতজোড় করে বলছি এই অবস্থায় যে সমস্ত মানুষরা দিনরাত এক করে পরিষেবা চালু করার জন্য আপনার আমাদের পাশে আছেন, সাথে আছেন তাদের সঙ্গে একটু কো-অপারেট করুন একটু সহ্য করুন ।


Users Today : 2
Total Users : 397806
Views Today : 2
Total views : 536541
Who's Online : 0
Your IP Address : 216.73.217.61