সামুদ্রিক কাঁকড়ার অস্তিত্ব আজ বিপন্ন।

ফাইল চিত্র,

আমাদের কাঁথি মহকুমা বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় অবস্থিত। সমুদ্র সৈকতে অনেক জীব বৈচিত্র্য রয়েছে। তার মধ্যে একধরণের কাঁকড়া দেখা যায়। ওই কাঁকড়াটি সাধারণ ভাবে লাল কাঁকড়া নামেই পরিচিত। যার বিজ্ঞানসম্মত নাম Gecarcoidea natalis (গিকারকোডিয়া নাটালিস)। এই কাঁকড়া বিজ্ঞানী মহলে ‘ওসিপোড ম্যাক্রোসেরা’ নামে পরিচিত। লাল কাঁকড়ার এই প্রজাতি বালুকাময় উপকূল, মোহনায় এবং ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে বসবাস করে। সেই সূত্রে আমাদের এই মহকুমার বিস্তীর্ণ উপকূল জুড়ে বালুকাময় সৈকতে অসংখ্য সামুদ্রিক লাল কাঁকড়ার দেখা পাওয়া যায়। বহু প্রকৃতি প্রেমী মানুষ সমুদ্র দর্শনের সাথে সাথে আজও এই লাল কাঁকড়া দেখতে আসেন। এই কাঁকড়া এক সময় ওল্ড দীঘা থেকে নিউ দীঘা পর্যন্ত সৈকতভূমি এলাকা জুড়ে এই লাল কাঁকড়াদের দেখা পাওয়া যেত।

যদিও সাম্প্রতিককালে এই কাঁকড়ার অস্তিত্ব যথেষ্ট ভাবে কমেছে তার অন্যতম কারণ, যথেচ্ছ ভাবে ‘নন জুডিশিয়াল ইকো-ট্যুরিজম’ তৈরি হওয়া। যে কোনও বিষয় পরিমিত ব্যবহারে দীর্ঘদিন টেকে। কিন্তু এক্ষেত্রে তা না করায় প্রাণীদের বাসস্থানের ক্ষতি হয়। বেলাভূমিতে এই ইকো-ট্যুরিজমে কাঁকড়াদের বাসস্থানের উপরে প্রভাব পড়ে। পরিবেশে মেশে না এমন দ্রব্যের ব্যবহার বহু বেড়েছে উপকূল অঞ্চলে। থার্মোকল, প্লাস্টিকের মতো পদার্থ ক্ষতি করে পরিবেশের। সেই সঙ্গে লাল কাঁকড়ার। এখন কিছু সৈকত জুড়ে উৎপাত ‘বিচ ফেস্টিভ্যাল’এর। তাতে বহু লোকের সমাগম হয়। পরিবেশের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। এছাড়াও প্যারা গ্লাইডিং, মোটর সাইকেল এবং জিপের গাড়ি দৌড়ের প্রতিযোগিতাও চলে। জিপ বা গাড়ি বেশি চলাচল করলে বেলাভূমির মাটি বসে যায়। তাতে মাটিতে বায়ু চলাচল করতে পারে না। সমস্যা হয় মাটিতে বসবাসকারী জীবের। এছাড়াও উপকূল অঞ্চলে নির্বিচারে গাছ কাটা চলছে। তার সঙ্গে বেড়েছে ভূমিক্ষয়।

কাঁকড়ার বাসস্থানে টান পড়ছে। এই লাল কাঁকড়াদের আজ ওল্ড দীঘা কিংবা নিউ দীঘার কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। অবশ্য নিউ দীঘার নিকটবর্তী উদয়পুর সৈকতের দিকে এখনও এই লাল কাঁকড়াদের দেখা যায়। যা খুবই সামান্য। শংকরপুরে যৎসামান্য দেখা মেলে। অ্যাকোয়াকালচার রিসার্চের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই কাঁকড়ারা নতুন বাসস্থান খুঁজে পেয়েছে। তাজপুরে কিন্তু প্রচুর সামুদ্রিক লাল কাঁকড়া দেখা মেলে এখনও। মান্দারমনিতে সৈকতে যথেচ্ছভাবে গাড়ি যাতায়াতের ফলে লাল কাঁকড়ার অস্তিত্ব আজ সেখানে বিপন্ন। পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলি, লাল কাঁকড়া উপভোগ করতে হলে আপনারা আসুন– আসতে আসতে গড়ে উঠা কাঁথির বগুড়ান জলপাই, বাকিপুট ও শৌলার সৈকতে। যদিও এই সৈকতগুলিতে জোয়ারের সময় আসা ভালো। কিন্তু লাল কাঁকড়া উপভোগ করতে আপনাকে ভাটার সময় অবশ্যই আসতেই হবে। ওই কাঁকড়া খুবই চালাক। দেখা দিয়েই নিমেষেই গর্তে ঢুকে যায়। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য লাল কাঁকড়ার অবিলম্বে সংরক্ষণ প্রয়োজন। না হলে বিলুপ্তির আর দেরি নেই। আসুন আমরা সকলে মিলে এই লাল কাঁকড়ার অস্তিত্ব রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়াস করি । নচেৎ ভবিষ্যতে এই লাল কাঁকড়াদের কথা শুধুই গল্প গাঁথায় বেঁচে থাকবে !!

Social Share

অনুসন্ধান !!

এখনকার খবর !!

2 thoughts on “সামুদ্রিক কাঁকড়ার অস্তিত্ব আজ বিপন্ন।”

    1. আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এইভাবে আমাদের উৎসাহ প্রদানের জন্য।
      মেদিনীকথা গ্রুপের তরফ থেকে সকল কাঁথি মহকুমাবাসীর জন্য নিয়ে এলো একটি ওয়েবসাইট- https://medinikotha.in
      এই ওয়েবসাইটের মূল লক্ষ্য হলো কাঁথি মহকুমার অন্তর্গত এলাকাগুলির তথ্য যেমন- (স্থানীয় সংবাদ, ইতিহাস, সাহিত্য-সংস্কৃতি, পর্যটন, শিল্পকলা, ইত্যাদি) সর্বসমক্ষে তুলে ধরা।
      আপনারা আপনাদের পছন্দের কাঁথি মহকুমা এলাকার তথ্য, ঘটনা (ফোটোগ্রাফ ও ভিডিও), আঁকা-ছবি, ছোটোগল্প, অণুগল্প, ছড়া, কবিতা, সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনধর্মী প্রবন্ধ, সরাসরি আমাদের কাছে তুলে ধরতে পারেন। প্রতিবার তথ্য প্রেরণের সময় আপনার নিজের ছবি ও নাম সহযোগে পাঠাতে হবে আমাদের কাছে।
      আমরা আপনার প্রেরিত তথ্য বিচার বিশ্লেষণ করে website এ প্রকাশ করবো।
      বি: দ্র: – [ কোনো কিছু প্রদানের সময় মনে রাখবেন আপনার প্রেরিত তথ্য যেনো সম্পূর্ণ রূপে আপনারই হয়, পরবর্তী সময়ে আপনার প্রেরিত তথ্য কোনো প্রকার চুরি বা ভুল প্রমাণিত হলে, আইনত সম্পূর্ণ দায়ভার আপনার উপর বর্তাবে। ]
      আমাদের ওয়েবসাইটে কোন প্রকার রাজনৈতিক, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত সংক্রান্ত, জাতি ও বর্ণবিদ্বেষ মুলক খবর প্রকাশ করা হয় না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *